জুয়া আর মাদকে ভাসছে শৈলকুপা

জুয়া আর মাদকে ভাসছে শৈলকুপা

জুয়া আর মাদকে ভাসছে শৈলকুপা

জুয়া আর মাদকে ভাসছে শৈলকুপা

জুয়া আর মাদকের উপরে ভাসছে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা । ১৪ টি ইউনিয়ন, পৌরসভা আর শহর জুড়ে ক্রমেই বাড়ছে মাদক আর জুয়ার আসর । এসব রোধে পুলিশের ভুমিকা নির্লিপ্ত । মাদক আর জুয়াড়ীদের প্রকাশ্য ঘোষণা পুলিশ কে পয়সা দিয়েই চলে তাদের ব্যবসা । শুধু পুলিশ নয় বিভিন্ন সংস্থাকেও মোটা অংকের টাকা দিতে হয় । মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কয়েকজন শৈলকুপা এসে টাকা নিয়ে যায়, আবার কারো বিকাশে টাকা দিতে হয় মাসিক হারে । মাদকের মদ্যে রয়েছে মদ, গাজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা, হেরোইন । এসবের মধ্যে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ইয়াবা ব্যবসা । শহরে আশংকাজনকভাবে টিনেজদের মধ্যে ইয়াবা সেবনের মাত্রা বাড়ছে, আবার অনেকে ব্যবসায়ে জড়িয়ে পড়ছে । এদের অনেকে আবার পুলিশের সোর্স দাবি করে ব্যবসা করছে ।
শৈলকুপা শহরে কমপক্ষে ৫টি স্পটে নিয়মিত জুয়ার আসর বসানো হয় । ইউনিয়নগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশী জুয়ার বোর্ড চলে ত্রিবেণী আর মির্জাপুর ইউনিয়নে । ত্রিবেনীর মদনডাঙ্গা ইউনিয়ন বোর্ড অফিসের পেছনে হানিফ নামের এক জুয়াড়ি রবি ও বৃহস্পতিবারে জুয়ার বোর্ড শুরু করে প্রকাশ্যে । তার দাবি পুলিশ সহ বিভিন্ন সংস্থা এমনকি সাংবাদিকদের হাতে পয়সা দিয়েই তারা জুয়া চালায় । প্রতি শুক্রবার ও মঙ্গলবার আতিয়ার ও আজাদ নামের দুই জুয়াড়ি প্রায় একই স্থানে জুয়ার আসর বসায় । তাদের অনুরুপ দাবি সকলকে নিয়মিত টাকা-পয়সা দিয়েই জুয়ার বোর্ড বসিয়ে থাকে। প্রতি শনিবার শেখপাড়া বাজারে হাটের পশ্চিমে জুয়ার আসর বসিয়ে থাকে আনোয়ার জোয়ার্দ্দার ও তার লোকজন । একই এলাকায় অর্থাৎ শেখপাড়াতে সোমবার ও বুধবার জুয়ার বোর্ড চালায় সানোয়ার ও মকসেদ নামের দুই জুয়াড়ি । ধাওড়ার চরপাইকপাড়া বসে জুয়ার আসর । সপ্তাহজুড়ে এসব এলাকায় বিভিন্ন অঞ্চল থেকে জুয়াড়িরা আসে জুয়া খেলতে। জুয়ার নেশায় সর্বস্ব খুইয়ে অনেকে পথে বসেছে। বেড়েছে এলাকায় চুরি, ছিনতায়, তৈরী হয়েছে সন্ত্রাসী গ্যাংগ্রুপ । অনেক পরিবার নি:স্ব হয়ে যাচ্ছে মাদক, জুয়ার সর্বনাশা নেশাতে পড়ে, বাড়ছে হানাহানি ।
খালকুলা, রয়েড়া, ঝাউদিয়া, লাঙ্গলবাধ, খুলুমবাড়িয়া, শেখপাড়া, তমালতলা, বড়মৌকুড়ি, হাটফাজিলপুর, রায়জাদাপুর, গোবিন্দপুর, হিতামপুর, গ্রামে রয়েছে গাঁজা আর ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আখড়া । খুলুমবাড়িয়ার ইয়াবা ব্যবসায়ী তালুক দীর্ঘ বছর ধরে ইয়াবা ব্যবসা করে আসছে । মাঝে মধ্যে পুলিশের হাতে সে আটক হলেও দুএকদিন পর আবারও যথারীতি ব্যবসা শুরু করে। তার কাছ থেকে কতিপয় পুলিশ সহ বিভিন্ন সংস্থা মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে থাকে মাঝে মধ্যেই । গোবিন্দপুরের বাশার ইয়াবা ব্যবসা করে আসছে। হরিহরা-খালধারপাড়ের বাচ্চু, ইমরান ইয়াবা ব্যবসা করে আসছে। ভাটই পুলিশক্যাম্প এরিয়ার কয়েকটি গ্রামে বেশ কয়েকজন ইয়াবা ব্যবসায়ী রয়েছে, এদের সাথে একটি সংস্থার কিছু অসৎ সদস্য জড়িত বলে অভিযোগ আছে। তারা ইয়াবা সরবরাহ করে রীতিমতো ব্যবসার পার্টনার হয়েছে। গাড়াগঞ্জের ইদ্রিস ফেনসিডিল ব্যবসা করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। শেখপাড়া অঞ্চল গাজার হাট বলে পরিচিত দীর্ঘদিন ধরেই ।
শৈলকুপা শহরে ক্ষুদের মোড়ে শুশীল, হিতামপুর গ্রামের সাহেব আলী, কবিরপুর নতুন ব্রীজ এলাকার জাকির গাজার পাইকরী ব্যবসায়ী । এসব মাদক ব্যবসায়ীদের পরিষ্কার কথা টাকা দিয়েই তারা ব্যবসা চালাচ্ছে ।
শৈলকুপা শহরের তরুন আর যুব সমাজের বড় একটি অংশ নেশায় আশক্ত হয়ে পড়ছে। এদের অনেকে পুলিশের হাতে আটকা পরে আবার কয়েক ঘন্টার মধ্যে টাকার বিনিময়ে ছাড়া পায় বলে অনেক মাদক ব্যবসায়ী জানিয়েছে। মামলার হাত থেকে রক্ষা পেয়ে আবার বিক্রি করেছে গাঁজা-ইয়াবা ।
শৈলকুপা থানার পুলিশ অবশ্য দাবি করে আসছে মাদক-জুয়ার বিরুদ্ধে তাদের নিয়মিত অভিযান চলছে । শহরে জুয়াড়ীদের আড্ডা এখন আর নেই । গাজা, ইয়াবা সহ অন্যান্য মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা( ওসি) আলমগির হোসেন বলছেন, শৈলকুপায় নেশাদ্রব্যাদি, মাদকসিন্ডিকেটের তৎপরতা আগের চেয়ে অনেক কম। খোঁজ পাওয়ামাত্র তাদের আটক বা গ্রেফতার করা হচ্ছে। জুয়ার আড্ডাও নেই বলে দাবি করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *