Sun. Apr 21st, 2024

ঝিনাইদহ নিউজ

সবার আগে সর্বশেষ

অর্থের অভাবে চোখের আলো নিভে যেতে বসেছে ঝিনাইদহের শিশু সাঈদের

1 min read

অর্থের অভাবে চোখের আলো নিভে যেতে বসেছে ঝিনাইদহের শিশু সাঈদের

অর্থের অভাবে চোখের আলো নিভে যেতে বসেছে ঝিনাইদহের শিশু সাঈদের
অর্থের অভাবে চোখের আলো নিভে যেতে বসেছে ঝিনাইদহের শিশু সাঈদের

‘মামা, তোমার মোটরসাইকেলে আলো জ্বলিছে, আমি দেখিছি।’ কথাগুলো বলার সময় ডান চোখের মণি জ্বলজ্বল করে ওঠে শিশু আবু সাঈদের। কিন্তু তিন বছরের ফুটফুটে শিশুটি এখনো জানে না, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই হয়তো তার চোখের সব আলোই নিভে যাবে।
আবু সাঈদ ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের কৃষক মোশারফ হোসেনের একমাত্র সন্তান। তার বাম চোখ ইতিমধ্যে তুলে ফেলা হয়েছে। ডান চোখটিও তুলে ফেলতে পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। এরপর সে আর হয়তো এই পৃথিবীর আলো জ্বলা-নেভা দেখতে পাবে না। সরেজমিনে দেখা যায়, ফুটফুটে সাঈদ বিছানার ওপর বসে খেলছে। তার বাম চোখে আলো নেই তা বোঝার উপায় নেই। এ সময় শিশুটির মামা মনিরুজ্জামান বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে শেষবারের মতো সাঈদের একটি চোখ রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু অর্থের অভাবে পারছে না। এমনকি ডান চোখটি তুলে ফেলতে যে অর্থ দরকার, তার জোগাড়ও করতে পারছেন না তাঁরা। তাই বিনা চিকিৎসায় বাড়িতে পড়ে আছে সাঈদ। সাঈদের মা বন্যা খাতুন জানান, ছয় মাস বয়সে সাঈদের বাম চোখ লাল হয়ে আসে। ঢাকায় ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান, সাঈদের চোখে টিউমার হয়েছে। চোখটি তুলে ফেলতে হবে। এরপর তাঁরা বাড়ি ফিরে টাকার জোগাড় করতে থাকেন। টাকা জোগাড় করে আবার ঢাকায় যান। এর মধ্যে কেটে যায় এক বছর। তখন চিকিৎসকেরা চোখে ক্যানসার হয়েছে বলে কেমোথেরাপি দেওয়ার পরামর্শ দেন। চারটি কেমো দেওয়ার পর বাম চোখটি উঠিয়ে দেন চিকিৎসকেরা। আরও আটটি কেমোথেরাপি দিতে হবে বলে জানান। এর শেষটি দেওয়ার জন্য ২০ সেপ্টেম্বর সাঈদকে ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে নেন তাঁরা। সেখানকার চিকিৎসক রিফাদ রশিদ জানান, ডান চোখটিও তুলে ফেলতে হবে।

এটা শুনে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে সাঈদকে নিয়ে বাড়ি আসেন। বন্যা খাতুন আরও বলেন, চিকিৎসকেরা বাকি চোখটিও তুলে ফেলতে বলার পর তাঁরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সাঈদের মায়ের ইচ্ছা, ভারতে নিয়ে একবার চেষ্টা করতে পারলে ভালো হতো। না হলে ছেলেকে বাঁচিয়ে রাখার প্রয়োজনে বাকি চোখটিও তুলে ফেলার ব্যবস্থা করবেন।
জানতে চাইলে স্থানীয় পদ্মকর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, সাঈদের বাবা মোশারফ হোসেন অসচ্ছল। তাঁর একমাত্র ছেলের দুটি চোখই ফেলে দিতে হবে, ভাবতেই কষ্ট হয়। আর্থিক সচ্ছলতা থাকলে তাঁরা একটি চোখ বাঁচানোর চেষ্টা করত, কিন্তু সেটাও পারছে না। সমাজের বিত্তবানরা যদি একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় তাহলে শিশু সাঈদ হারাবে না তার চোখের আলো। শিশু সাঈদকে সহযোগীতা করুন বিকাশ (০১৭৭০-৭৪২৮৭৩-ব্যক্তিগত), অথবা, মো: মনিরুজ্জামান, চলতি হিসাব নং-০০২১১৮৬০৯, সোনালি ব্যাংক, হাটগোপালপুর শাখা, ঝিনাইদহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *