Wed. Dec 11th, 2019

ঝিনাইদহ নিউজ

সবার আগে সর্বশেষ

দুর্নীতির মামলায় কারাগারে বসে দুর্নীতির আশ্রয় নিলেন ঝিনাইদহের শিক্ষা কর্মকর্তা

1 min read

ঝিনাইদহ নিউজ ডেস্ক: দুর্নীতির মামলায় কারাগারে যাওয়া শিক্ষা কর্মকর্তা মুশতাক আহমেদ সেখানে বসেই আবারো দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন। কারাগারে গেলেও তিনি সেই তথ্য গোপন করে চিকিৎসার কথা বলে ছুটি চেয়েছেন। ৯ দিনের নৈমিত্তিক ছুটির পর আবারো চিকিৎসার জন্য তিন সপ্তাহের ছুটি চেয়েছেন ওই কর্মকর্তা। এই ক্ষেত্রে কর্মকর্তা তার চিকিৎসক ভাই ডাক্তার এন.কে আলমের একটি মেডিকেল সনদ দাখিল করেছেন।
অবশ্য ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এই আবেদনটি পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও আবেদনপত্রে ওই কর্মকর্তার স্বাক্ষর নেই বলে জানিয়েছেন। হাতের লেখা আবেদনটির নিচে সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুশতাক আহমেদের নাম ও পদবি লেখা আছে। ৭ এপ্রিল তিনি নৈমিত্তিক আর ১৬ তারিখে চিকিৎসার জন্য ছুটি চেয়ে আবেদন দুইটি করেন।
প্রসঙ্গত, ঝিনাইদহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে ২০১৭ সালের ১৩ মার্চ মুশতাক আহমেদ যোগদান করেন। এরপর থেকে তিনি দায়িত্ব পালন করে আসছেন। গত ৮ এপ্রিল হতে তিনি কার্যালয়ে অনুপস্থিত আছেন। প্রথম দিকে তিনি নৈমিত্তিক ছুটিতে আছেন বলে ওই অফিসের অন্যরা অবহত ছিলেন। ৯ দিনের ছুটি শেষে ১৭ এপ্রিল থেকে তার কার্যালয়ে যোগদান করার কথা, কিন্তু তিনি যোগদান না করে ১৬ এপ্রিল চিকিৎসার জন্য তিন সপ্তাহের ছুটি চেয়ে আরেকটি আবেদন পাঠান। যে আবেদনে তার নাম থাকলেও স্বাক্ষর বা সীল দেওয়া নেই। এরপর থেকে তার মুটোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। এতে সংশ্লিষ্ঠ অফিসের অন্যরা বিচলিত হয়ে পড়েন। তারা খোজাখুজি করে কোথায় চিকিৎসাধীন সেটাও উদ্ধার করতে পারেননি। এই অবস্থায় কেটে গেছে প্রায় তিন সপ্তাহ।
এদিকে খোজ নিয়ে জানা গেছে শিক্ষা কর্মকর্তা মুশতাক আহমেদ দুর্নীতির একটি মামলায় হাজিরা দিতে গিয়ে আদালত কর্তৃক আটকের পর কারাগারে আছেন। আদালতের একটি সুত্র জানিয়েছেন, গত ১৫ এপ্রিল ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের দায়রা মামলা নং ৯/১৯ ও ১০/১৯ দুইটি মামলায় তিনি হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে বিচারক এ.কেএম ইমরুল কায়েস তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সেই থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। আর মামলা দুইটি বিশেষ জজ আদালত-৪ এর আদালতে বিচারাধীন রয়েছেন। এই মামলা দায়ের হয় ঢাকার শাহবাগ থানায় বলে জানিয়েছেন দুদুক কর্মকর্তারা। দুদুক প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিদর্শক জুলফিকার আলী শিক্ষা কর্মকর্তার কারাগারে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলার মুশতাক আহমেদের নামে অভিযোগপত্র দেওয়ার পর তিনি জামিনের জন্য এসেছিলেন। তারপর আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। অথচ তিনি চিকিৎসার জন্য ছুটি চেয়েছেন।
মামলার উৎপত্তি সম্পর্কে মাগুরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কুমারেশ চন্দ্র গাছি জানান, মুশতাক আহমেদ মহম্মদপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসে কর্মরত থাকা অবস্থায় একটি দূর্নীতির ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন। সেই সময়ে ৫ বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদায়নে যোগ্যতার সমস্যা দেখা দেয়। যোগ্যতা না থাকায় তৎকালীন জেলা শিক্ষা অফিসার পদায়নের ক্ষেত্রে তাদের নাম অধিদপ্তরে প্রেরন করেননি। পরবর্তীতে ওই সকল শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক হিসেবে বেতন ছাড় হয়। এ বিষয়টি খোজ নিয়ে শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা জানতে পারেন ওই শিক্ষকরা একাধিক কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে অধিদপ্তর থেকে তাদের বেতন ছাড় করিয়েছেন। এই বেতন ছাড়ের সময়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন মোঃ আমানুল্লাহ। পরে তার স্থলে বদলী হয়ে আসেন মোঃ আব্দুস সালাম। তিনি বিষয়টি নিয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। প্রাথমিক শিক্ষা অফিস তখন তদন্ত করেন এবং বিষয়টি ধরা পড়ে। শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্তা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
এদিকে বিষয়টি চলে যায় দুর্নীতি দমন কমিশনে। আর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে মহম্মদপুরে যোগদান করেন মুশতাক আহমেদ। দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্মিত যশোর জেলা কার্যালয়ের তৎকালীর সহকারী পরিচালক মোঃ ওয়াজেদ আলী গাজী বিষয়টি তদন্ত করেন। তদন্তে সবকিছু প্রমানিত হলেও মুশতাক আহমদ শিক্ষকদের বেতন করানোর বিষয়ে দাখিল করা সকল কাগজপত্র সঠিক আছে মর্মে লিখিত দেন। পরবর্তীতে দুদুক ঘটনাগুলো তদন্ত করে মামলা দায়ের করেন। যে মামলায় ওই শিক্ষকদের সঙ্গে মুশতাক আহমদকে আসামী করা হয়েছে। মামলায় ইতিমধ্যে চার্জসীট দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে মামলার অপর এক আসামী মাগুরা মহম্মদপুর উপজেলার মঙ্গলহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেই সময়ে কর্মরত ছিলেন কালুকান্দি বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়) বর্তমান প্রধান শিক্ষক মফিজুল ইসলাম জানান, তাদের সকল কাগজপত্র ঠিক ছিল। তাদের যোগ্যতাও ছিল। কিন্তু সব জায়গায় টাকা দিতে না পারায় তাদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। পরে তারা এক শিক্ষক নেতা দিয়ে বেতন করিয়েছেন। তিনি কিভাবে করেছেন তা তাদের জানা নেই। স্বাক্ষর স্ক্যান করে তা ব্যবহার করা হয়েছে দুদুকের প্রমানে যা পাওয়া গেছে এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান। তারা জামিনে আছেন বলে উল্লেখ করেন।
ঝিনাইদহ জেলা শিক্ষা অফিসার শেখ মোঃ আকতারুজ্জামান জানান, শিক্ষা কর্মকর্তা মুশতাক আহমেদ ৯ দিনের নৈমিত্তিক ছুটির পর চিকিৎসার জন্য একটি দরখাস্ত দিয়েছেন। যেখানে একটি মেডিকেল সনদও রয়েছে। এছাড়া তিনি শুনেছেন ওই কর্মকর্তা কারাগারে আছেন। তার মুটোফোনটিও বন্ধ আছে বলে জানান।
উল্লেখ, যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রামনাথপুর গ্রামের মাষ্টার দিন মোহাম্মদ এর কনিষ্ঠ পুত্র মুশতাক আহমেদ ২০০৫ সালে ১০ জানুয়ারি চাকরিতে যোগদান করেন। সাতক্ষীরা সদর ও ঝিনাইদহের কালিগঞ্জ সহ বিভিন্ন স্থানে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *