Sat. Dec 14th, 2019

ঝিনাইদহ নিউজ

সবার আগে সর্বশেষ

পাঠ্যপুস্তকে মওলানা ভাসানীর জীবনী কি আর সংযোজন হবে না?

1 min read

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণে লিখছিঃ

পাঠ্যপুস্তকে মওলানা ভাসানীর জীবনী কি সংযোজন হয়েছে ? কেন তিনি অপাঠ্য হলেন ? ৬ বছর আগে এই ঘটনায় তখন অসন্তোষ প্রকাশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি বইতে ফের তার জীবনী তুলে ধরার জন্য জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের কাছে সুপারিশও তুলে ধরে, সে ঘটনায় বা এগিয়েছে কতদুর ? মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, আপনাকে বিনয়ের সাথে বলছি, আপনি কি অবগত আছেন বিষয়টি প্রসঙ্গে ? আশা করি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন ।

‌‌” পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীর বাংলা বই থেকে মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর জীবনী সরিয়ে ফেলায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি ।
পাঠ্যপুস্তকে মওলানা ভাসানীর জীবনী আবার সংযোজনের জন্য জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের কাছে সুপারিশ করেছে কমিটি”( প্রথম আলো, ২১ জানুয়ারী,২০১৩) ।

সেই ৬ বছর আগে অর্থাৎ ২০১৩ সালের জানুয়ারী মাসের ২১ তারিখ সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এই সুপারিশ করা হয়েছিল। ঘটনার অর্ধযুগ পেরিয়ে গেছে কিন্তু তা কি বাস্তবায়িত হয়েছে ?

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখিত এই প্রসঙ্গে, আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি । মাননীয় মন্ত্রী,১৯৮৭ সালে আপনি যখন শিক্ষার্থী, ঢাকা মেডিকেল কলেজে পড়েন তখনকার সময়ে বিটিভিতে জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগীতায় শিক্ষাব্যবস্থা প্রসঙ্গে আপনি একজন তার্কিক হিসাবে কথা বলছেন । বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি গুরুত্বারোপ করে দেয়া আপনার যুক্তি- তর্ক আগ্রহভরে সাম্প্রতি দেখলাম । প্রাসঙ্গকি কারণে আপনার সেই বিতর্কের দিকেও মনোযোগ আকৃষ্ট করছি । দেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবে মুগ্ধ হয়েছি শিক্ষা নিয়ে আপনার সেই ক্ষুরধার যৌক্তিক উপস্থাপনে । তার মানে আপনি ছোটবেলা থেকেই শিক্ষা নিয়ে ভেবেছেন, মেধাবী শিক্ষার্থী হিসাবে আপনাকে এসব ভাবিয়ে তুলত । আর আজ আপনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সেই শিক্ষামন্ত্রী । একসময় যাদের দিকে দৃষ্টিপাত করে শিক্ষা ব্যবস্থা এগিয়ে নিতে আপনার আকুতি ছিল । আজ আপনি সেই গৌরবময় আসনে, আপনি সিদ্ধান্ত দিবেন আর দেশ-জাতি তা পালন করবে,লালন করবে । আপনার চাওয়া-পাওয়ার এমন মেলবন্ধনে যেন সেই আকুতির জায়গা এখন পূর্ণতা পায় ।
দেখুন, জাতি তাকিয়ে আছে ঘুনে ধরা, ক্ষয়ে যাওয়া সমালোচনামুখোর এই শিক্ষা ব্যবস্থার নানা পরিবর্তন ঘটিয়ে সময়োপযোগী আর বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে প্রতিযোগিতামুলক ভাবে যেন এগিয়ে যেতে পারে সেদিকে । আপনার সৌভাগ্য সেই গুরুভার, দায়িত্ব এখন আপনার হাতে, আপনি এখন শিক্ষামন্ত্রী ।

মাননীয় মন্ত্রী, মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ছিলেন এদেশের নির্যাতিত-নিপীড়িত, মেহনতি মানুষের মুক্তির দিশারী। বাংলার ইতিহাসের স্বর্ণাক্ষরে লিখিত এই অনাড়ম্বর রাজনীতিকের সেই জীবনী স্বাধীন বাংলাদেশের শিশু কিশোরদের পাঠপুস্তকে থাকবে না, তা উঠিয়ে দেয়া হয়, এটা কি হতে পারে ? ব্রিটিশ ভারতের অন্যতম তৃণমূল রাজনীতিবিদ ও গণআন্দোলনের নায়ক, যিনি জীবদ্দশায় ১৯৪৭-এ সৃষ্ট পাকিস্তান ও ১৯৭১-এ প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। যিনি বাংলাদেশের মানুষের কাছে “মজলুম জননেতা” হিসাবে সমধিক পরিচিত, তার জীবনী থাকবে না আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় ?

আমাদের দেশে ৩স্তর বিশিষ্ট্য শিক্ষা ব্যবস্থা। এর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে অর্থাৎ পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীর বাংলা বই থেকে মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর জীবনী ছিল,যা সরিয়ে ফেলা হয়েছে । কয়েকজন শিক্ষকের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হলাম, পাঠ্যপুস্তকে মওলানা ভাসানীর জীবনী আর সংযোজন হয়নি ।

আমাদের জাতীয় জীবনে গুরুত্ববহন করে এমন বিষয়গুলিতে সামগ্রিক বা পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস থাকতে হবে । খন্ডিত কিছু ,ইতিহাস হতে পারে না । কোন ইতিহাস যদি খন্ডিত হয় তবে জাতি হিসাবে আমরা এগিয়ে যেতে পারব না । শিক্ষার ক্ষেত্রে ভবিষ্যত প্রজন্মকে দেশের সকল গৌরবময় ইতিহাস-ঐতিহ্য জানতে হবে। জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ এক উন্নত শিক্ষার ব্যবস্থা করে তাদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলে সুন্দর ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ উপহার দিতে হবে।

মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, বাংলার ইতিহাসের স্বর্ণাক্ষরে লিখিত অনাড়ম্বর রাজনীতিক মওলানা ভাসানীর সেই জীবনী স্বাধীন বাংলাদেশের শিশু কিশোরদের পাঠপুস্তকে, শিক্ষায় থাকবে আপনার মাধ্যমে সেটিই প্রত্যাশা করি ।

 

লেখক: আব্দুর রহমান মিল্টন, ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি, ডিবিসি নিউজ
লেখক: আব্দুর রহমান মিল্টন, ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি, ডিবিসি নিউজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *