Wed. Jul 8th, 2020

ঝিনাইদহ নিউজ

সবার আগে সর্বশেষ

ভাগাড়ের স্তুপশৈলকুপা পৌরসভায় নতুনমুখের সন্ধ্যানে নাগরিকরা

1 min read

শৈলকুপা পৌরসভায়

রামিম হাসান,ঝিনাইদহ: দেড়দশক আগের শৈলকুপা পৌরসভা এখনো ভাগাড়ের স্তুপ হিসাবে রয়ে গেছে । নেই কোন নাগরিকসুবিধা অথচ ক্রমেই বাড়ছে কর-খাজনা ! অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে নাগরিকরা, নানা প্রতিশ্রতির ঝুঁড়িখুলে ভোট নিয়ে যখন যে পৌরপিতার দায়িত্ব পালন করছে সেই নাগরিকদের সাথে প্রতিশ্রুত ভঙ্গকরেছে। তবে এই পৌরসভার প্রথম পৌরপিতা হিসাবে খলিলুর রহমানই একমাত্র কিছুটা কাজকরেছিলেন পৌরবাসীর জন্য। তার অনেক কাজের মধ্যে অন্যতম হলো শৈলকুপায় কুমার নদে একটিনতুন বাজার করেছিলেন, যা খুবই প্রয়োজন ছিল। একটি পৌর পার্ক করার উদ্যোগও নিয়েছিলেনতিনি তবে শেষ করতে পারেননি। এর পরবর্তীতে নাগরিক সুবিধার জন্য আর কোন কাজ করেনিকেউ, এমন অভিযোগ নাগরিকদের। এখনো একটি ট্রাক টার্মিনাল নাই, একটি বাস টার্মিনালহয়নি, মাইক্রো স্ট্যান্ড নেই ।

অনেক বাজারই রাস্তার উপরে বসে। কলার হাট বসে খোদ বাজারেরমাঝে, এতে শনি-মঙ্গলবারে বাজারে চলা দায় নাগরিকদের।  পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে রাস্তা-ঘাটের বেহাল দশা, নেইপানি-বিদ্যুতের সু-ব্যবস্থাও ।এইঅবস্থায় অসহায় নাগরিকরা আবারো একজন নতুনমুখ খুঁজে চলেছে । তারা এমন একজন কেখুঁজতে চলেছে যে যেন নাগরিকদের-সুখ-দু:খের ভাগিদার হতে পারে, বিপদে-আপদে পাশেদাঁড়াতে পারে। আগামী নির্বাচনে কে হতে পারে সেই কাঙ্খিত মুখ নিয়ে চায়ের দোকানেচলছে তুমুল আলাপচারিতা । নতুনমুখ হিসাবে এরই মাঝে বেশ কয়েকজনের নাম আসছে। এদেরঅনেকে বিভিন্ন ওয়ার্ডে নাগরিকদের বিপদ-আপদে পাশে দাঁড়াতে শুরু করেছে। ব্যাক্তিগত অর্থদিয়ে করোনা কালের মহাবিপদে পাশে দাঁড়াচ্ছে। খোঁজ-খবর নিচ্ছে, চাল-ডাল আর নগদঅর্থের সহায়তা করছে। বিভিন্ন পেশার মানুষের সাথে মত বিনিময় করছে, তাদের খোঁজ-খবরওরাখছে । রাজনৈতিক পক্ষপাত বা দলাদলী নয় যে পৌরসভার সকল নাগরিকদের বিপদে পাশেদাঁড়াতে পারবে এমন একজন মানুষকেই নগর পিতা হিসাবে পেতে তারা নজর রাখছে নতুনদেরপ্রতি। দেড়দশক আগে এ গ্রেডে উন্নীত হলেও ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌরসভায় বিরাজ করছে মহা অচলাবস্থা।এমনকি পৌর কর্মচারীরাও ৮/১০ মাসের বেতন-ভাতা পাচ্ছে না । অথচ দিনে-রাতে তাদের কাজকরে যেতে হচ্ছে । ভাঙ্গাচোরা রাস্তা-ঘাট, ধুলোবালি আর ময়লা-আবর্জনায় ৪৩ হাজারনাগরিক অধ্যূষিত শৈলকুপা পৌরসভা ঠিক যেন ভাগাড়ের স্তুপ। ক্ষুব্ধ নাগরিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেদুষছেন নগর পিতা কে আর মেয়র ব্যর্থতার দায় শিকার করে অজুহাত দেন সরকারী-বে-সরকারীবরাদ্ধ না পাওয়া কে।পৌরসবার১নং ওয়ার্ড, ৪নং ওয়ার্ড, ৬নং ওয়ার্ড, ৮নং ওয়ার্ড, ৯নং ওয়ার্ড সহ সকল ওয়ার্ডে হাটা-চলারনেই কোন ভাল রাস্তা। কাঁচা-পাকা সবর্ত্র একই অবস্থা বিরাজ করছে ।  

পৌর সদর সহ চারপাশেই যত্রতত্র ঢালা হচ্ছেময়লা-আবর্জনা। দুর্গন্ধে টেকা দায়, এ একটি  মহা ভাগাড়ের স্তুপ ।  নেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা, মাঠের পর মাঠ তলিয়ে থাকছে ফসলেরক্ষেত।১৯৯২সালে স্থাপিত শৈলকুপা পৌরসভা ২০০৫ সালে উন্নীত হয় প্রথম শ্রেণীতে। তবে এ যেনখাতা-কলমেই সীমাবদ্ধ । দেড় দশক আগে প্রথম শ্রেণীর হলেও পরিকল্পিত ও নাগরিক সেবার কোনছাপ নেই এখানে। সবচেয়ে বড় সমস্যা রাস্তা-ঘাট না থাকা।  ড্রেন-কালভার্ট, রাস্ত-ঘাট, বিদ্যুত-পানির সু-ব্যবস্থানেই ৯টি ওয়ার্ডের নাগরিকদের মাঝে। অনেক স্থানে এলাকাবাসী হাঁড়ি চাঁদা দিয়ে নিজেরাইরাস্তা বানিয়ে নিয়েছে চলাচলের জন্যে। অথচ কর-খাজনা, ট্যাক্স বৃদ্ধি পাচ্ছে দিন কে দিন । নগরবাসী পৌরসভায় পরপর দু’বার মেয়র নির্বাচিতকরেছেন কাজী আশরাফুল আজম কে। কিন্তু নাগরিক সুবিধা না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া তাদের। এদিকেনির্দ্বিধায় নগর পিতা কাজী আশরাফুল আজমও শিকার করলেন নগরবাসিকে নাগরিক সুবিধা দিতেনা পারার কথা । তবে তিনি এসবের জন্য দায়ী করছেন পর্যাপ্ত সরকারী-বেসরকারী বরাদ্ধ ও নগরঅবকাঠামো প্রকল্প না পাওয়া কে। খোদ পৌরকর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাও বকেয়া পড়েছে বছরপেরিয়ে বেশী সময়ের। প্রসঙ্গত১৯৯২ সালে স্থাপিত পৌরসভায় মোট রাস্তা ১১০ কিলোমিটার, পাকা ৩৫ কিলোমিটার,লোকসংখ্যা ৪৩হাজার ৬৫০জন, ৯হাজার হোল্ডিং রয়েছে। এ গ্রেডের পৌরসভায় নগর অবকাঠামোর১টি প্রকল্পে ১৪ কোটি টাকার প্রাক্কলন অনুমোদিত হয়ে আছে । 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *