Wed. Jun 26th, 2019

ঝিনাইদহ নিউজ

সবার আগে সর্বশেষ

৭ম বছরে চ্যানেল24 এবং একটি অচল দীর্ঘশ্বাস

1 min read
আব্দুর রহমান মিল্টন

আব্দুর রহমান মিল্টন

‘আপনি কি জাম্প দেবেন না থেকে যাবেন ?’ ‘না, এখানেই ভাল আছি’। খুলনা ব‌্যুরোর এমন প্রশ্নে আমি এভাবেই উত্তর দিয়েছিলাম। বলছি, আমার প্রিয় চ্যানেল24 এর তখনকার কথা। যখন যমুনা টিভি আনুষ্ঠানিক সম্প্রচারে এলো মাত্র। এ সময় চ্যানেল২৪ এর হাউজ থেকে এবং মাঠ থেকে অনেক সংবাদকর্মী পেশাদারিত্বের কারণে যোগ দিতে থাকে নতুন টিভি যমুনাতে। এ অবস্থা হয়তো ঠেকাতে চেয়েছিল চ্যানেল24 কর্তৃপক্ষ । তারা টিভিতে স্ক্রলও লাগিয়ে দিয়েছিল দেশের বিভিন্ন জেলায় চ্যানেল24 এ প্রতিনিধি নিয়োগ হবে। যখন বিভিন্ন জেলা থেকেও কিছু কর্মী বেরিয়ে যাচ্ছিল তখন হয়তো অফিস পরামর্শেই আমার অবস্থান কি হবে তা জানতে চেয়েছিল খুলনা ব্যুরোর মাধ্যমে । যথারীতি আমার ইতিবাচক সাড়া পেয়েছিল তারা।

আমি যতটা সম্ভব মন-প্রাণ দিয়েই কাজ করে যাচ্ছিলাম, দুরন্ত গতিতেই চাঞ্চল্যকর কিছু দিতে সবসময় চেষ্টা করতাম। সন্তষ্টও ছিল নিউজরুম, তাদের পরামর্শ আর নির্দেশনার কোন ঘাটতি রাখতাম না, টিকার বলুন, প্যাকেজ বলুন ঝিনাইদহ থেকে সবার আগে আমিই পাঠাতে সক্ষম হচ্ছিলাম। অফিসের নানা শিক্ষা আর গাইডে চলতে থাকে আমার মাঠের সাংবাদিকতা ।

এবার চ্যানেল24 এ যোগদান বা কিভাবে শুরু সে প্রসঙ্গে একটু বলে রাখি । টেলিভিশন সাংবাদিকতা শুরু দেশটিভি দিয়ে। এই দেশটিভি ছোট্ট হাউজ ও মিশ্র চ্যানেল হলেও তখন এতটা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল দর্শকদের কাছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না । খুলনা বিভাগের একজন প্রতিনিধি হিসাবে আমি শুরুটা করতে পেরেছিলাম স্বার্থকভাবেই । দারুণ আগ্রহ আমাকে শক্ত অবস্থান দাঁড় করাতে সক্ষম হয় নিউজরুমে। একের পর এক ব্যাতিক্রম প্যাকেজ দিয়েছি, খুলনা বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশী প্রতিবেদন করেছি চ্যানেলটিতে। আমি আমার জেলার কোন সহকর্মী কি পাঠাচ্ছে তাদের চ্যানেলে, তা দেখার সময় পেতাম না। এক ধরনের প্রতিযোগীতা করতাম দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিনিধিরা কি পাঠাচ্ছে আর আমি কতটা কি করছি সেদিকে। মাদারীপুর জেলার দেশটিভির প্রতিনিধি প্রদ্যুত কুমার

সরকারের সাথে কম-বেশী প্রতিযোগীতা করতাম, কারণ দেশটিভিতে সে ছিল সবার সেরাদের একজন । সেও আমার দিকে নজর রাখত, ঝিনাইদহের কি যায় বা না যায় বা কি করছি আমি। একই কথা আমার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, আমি তাকে দেখতাম, সে কি দিচ্ছে, বা আমি পিছিয়ে পড়ছি কি না।

যাহোক, শুরুতেই এত সফল ভাবে দেশটিভি একটি পরিবার হয়ে উঠব আমরা তা কল্পনা করতে পারেনি। নিউজরুম আর মাঠে কোন ব্যবধান ছিল না, ছিল না অফিসের বড় বস বা খবরদারী সুলভ অভিভাবক(যৌক্তিক নানা কারণে তো অবশ্যই কড়া নির্দেশনা আসে, ধমক আসে, আসা স্বাভাবিক আমি সেটির কথা বলছি না) । তাই হয়তো সহজেই নিউজরুম আপন হয়ে উঠেছিল। কোন চ্যানেল জনপ্রিয় করতে এমন কৌশলী না হলে তার দর্শকপ্রিয়তা যে খুব একটা আলোরমুখ দেখতে সক্ষম নয়, এটা জোর গলায় বলতে পারি । আর এই টিভি জনপ্রিয় করতে পেছনের-সামনের কারীগরদের কথা না বললে বড় অকৃতজ্ঞায় ডুবে থাকতে হবে আমাকে। সুকান্ত গুপ্ত অলোক, ফাহিম আহমেদ, আমিনুর রশিদ, আহমেদ তোফায়েল. রমেন বিশ্বাস, আহসানুল হক আসিফ, গিয়াস আহমেদ, সুমন পারভেজ, সজীব আহমেদ, শাহিনুর সরকার, তনুশ্রী রয়, রিপোটিং এ নজরুল কবির, ফারজানা রুপা, মহসিন উল হাকিম, কায়সার রহমানী, রাব্বি সিদ্দিকী, বিকাশ বিশ্বাস, সালাহ উদ্দিন সুমন(অনেকের নাম মনে পড়ছে না এই দীর্ঘশ্বাসে, ক্ষমা করবেন) সহ এমন অসখ্য মুখ উদায়স্ত পরিশ্রম করে চ্যানেলটিকে দাঁড় করিয়ে দেয় অংকারের জায়গাতে । আর আমরা ছিলাম মাঠের সৈনিক । এখানে ৪/৫ জনের সাথে প্রতিযোগীতা করেই নিয়োগ পেয়েছিলাম।

ঠিক এমন একটি অহংকারের জায়গা কাজ করতে করতে চলে আসে ২৪ ঘন্টার নিউজ চ্যানেল, চ্যানেল24 । তখন পেশাদারিত্বের কারণে বা নিজেকে আরো বড় পরিসরে কাজ করতে দেশটিভি হাউজের অনেক তারকা সাংবাদিক পাড়ি জমায় চ্যানেল24 এ । মাঠের হলেও তখনই আমার যাওয়ার সুযোগ ছিল কিন্তু গেলাম না চ্যানেল24 এ । কিন্তু আমার প্রিয় মুখগুলো বেশীরভাগ তখন চলে গেছে ।

চ্যানেল24 এর ১বছর পূর্তির পর, আমারও ইচ্ছে হলো নিউজ চ্যানেলে কাজ করব । চলে যেতে চাইলাম প্রিয় দেশটিভি ছেড়ে কিন্তু আমার অবিভাবক রমেন দা বাধ সাধলেন। বললেন যেও না, কাজ করো, কি দরকার, প্রয়োজনে এখানে ভয়েজ দাও, আরো সুযোগ-সুবিধাও দরকার হলে দেয়া হবে। দাদার কথায় থাকলাম আরো কিছুদিন । তারপর অবশ্য যাওয়ার আগ্রহ আরো যখন বেড়ে গেল তখন সিদ্ধান্ত নিলাম ছেড়ে দিব আমার আতুরঘর । ততদিনেও চ্যানেল24 ঝিনাইদহে কাউকে নিয়োগ দেয়নি। শেষ পর্যন্ত আমি সহ ৫জন চ্যানেল24 এর নিয়োগের জন্য আবেদন করি, যথারীতি ৫জন কে ভাইভা সহ নিয়োগ প্রক্রিয়ার সবকিছু অনুসরণ করে সবাইকে টপকিয়ে শেষ হাসিটা আমি হাসলাম। কারো দয়া, দান, অনুগ্রহ, করুণা বা সুপারিশে আমি নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলাম না যদিও অনেকে ছিল আমার খুব কাছের, তারা জানতেন আমাকে, আমার সাংবাদিকতা কে।

এভাবে নানা যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে শুরু হলো নিউজ চ্যানেল24 এ পথ চলা । এখানে আসিফ আহসানুল ভায়ের গাইডে প্রতিযোগীতামূলকভাবেই কাজ করছিলাম । ফারাবি হাফিজ সহ চমৎকার সব নিউজ প্রেজেন্টার, নিউজরুমের আমিনবাবু, মোর্শেদুজ্জামান হিমু, সুমন তালুকদার সহ নতুন সব মানুষ নিউজরুমের এক একটি কারিগর। জনপ্রিয়তার শীর্ষে ওঠা চ্যানেলটিতে তাদের সাথে মাঠের কাজ করতে পেরে পেলাম নতুন গতি। আগেই উল্লেখ করেছি প্রিয় এ চ্যানেল ছাড়তে চাইনি, তাই খুলনা ব্যুরো জানিয়েছিলাম আমার স্পষ্ট কথা।

কিন্তু কি দুর্ভাগ্য আমার! এখানে কাজের ২বছরের মাথায় চ্যানেল থেকে পেলাম অব্যহতি পত্র। হায়! এত শ্রম, এত ঘাম, এত ভালবাসার এমন মূল্যায়িত হতে হবে তা কল্পনাতেও ভাবেনি। পেশাদারিত্বে এসে এমন ধাক্কা যারা পেয়েছে তারাই বোঝে দংশন যন্ত্রনা । যদি চ্যানেলটির সম্পাদকীয় নীতিমালা লঙ্ঘনে বা নিয়োগ নীতিমালা লঙ্ঘনে বা অনিয়মের কারনে অব্যহতি পেতাম তাতে কষ্ট পেতাম না । কষ্ট পেতাম না, যদি বলত পারফরমেন্স খারাপ তাই এ বিদায় ঘন্টা। কিন্তু এসবের কোনটিই আমাকে বলা হয়নি।
কারণ খুঁজতে, তেঁজগাও ঢাকার প্রিয় চেনা অফিস মুহুের্ত অচেনা হয়ে ওঠার পরও গেলাম। জানতে পারলাম ‌’চাঁদা’ চাওয়ার অপরাধ আমি করেছি। কে এমন অপরাধে অপরাধী করল, সেটা জানতে পেরে আরেক দফা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লাম। সেটা কোন সরকারী-বে-সরকারী অফিস, আদালত, প্রতিষ্ঠান নয়। কোন কোম্পানী, ব্যাক্তি, পুলিশ বা কোর্ট-কাচারী নয় । এ অভিযোগ দিয়েছে ক্ষোদ মালিক পক্ষের একজন, কে তিনি, অবশেষে পেলাম তার নাম । তিনি বিএনপি নেতা একজন এডভোকেট, তিনি হা-মীম গ্রুপের নানা বিষয় দেখেন । তার কাছে আমি মোবাইলে চাঁদা চেয়েছি! আচ্ছা ভেবে দেখুন তো একেবারে বদ্ধ পাগল ছাড়া, পেশাদারিত্বের জায়গা দাঁড়িয়ে অফিশিয়াল বা মালিকপক্ষের কারো কাছে চাঁদা চাইতে পারি ? আমি কি একেবারেই সেই বদ্ধ পাগল ? আরে টাকার দরকার হলে তার কাছে কেন যাব, জেলায় কি লোকের অভাব, কত সাংবাদিক(!)ই তো টাকা-পয়সা নেয়, তার চেয়ে বড় কথা আমি এমন কাতারের নই, যদি হতাম তাহলে আজকে এই দীর্ঘশ্বাস ছাড়তাম না ! যাহোক আমি যদি বেঁচে থাকি তবে কোন একদিন এ বিষয়ে আরোও জানাবো।

এ ঘটনার পরে চ্যানেল24 এর নিউজরুম আমার পাশে ছিল, এটাই আমাকে সাহস যুগিয়েছে । তখন অফিসের অনেকে বলেছে ”ইস!কি আর করার আছে ভাই, আপনার পাশে দাঁড়াতে হলে আমারও চাকুরী যেতে পারে, আমরা তো চাকুরী করি,” আরো বললেন, আপনার মতো টিকার বিভাগের এক সাংবাদিকের চাকুরী অটো চলে গেছে । ভোলার এক প্রতিনিধির চাকুরী অটো চলে গেছে’ । ফিরে এলাম হতাশ হয়ে, একি! শুধু আমি নই, অনেকে এমন পথের পথিক হয়েছে ?

কেন এমন হলো, খুঁজতে গিয়ে দেখি, সেই এডভোকেটের নির্দেশিত এক নিউজ, যা আমি এড়িয়ে গেছি, কারণ,সে নিউজ অনুসন্ধান করে দেখি( নারী ঘটিত) তার কোন সত্যতা নেই। এই হলো ঘটনা, তারপরেই আমি তার ইগোর বলি হলাম নির্মম ভাবে ।

বিশ্বাস করুণ, আমি বলেছিলাম তাকে, করুণা করে হলেও আমাকে ফেলে দিবেন না, যদিও এমন ছোট কথা বা কারো কাছে এতটা ছোট হওয়ার মানুষ আমি নই, বলা যায় বিপরীত স্রোতে চলা এক মানুষ আমি । আতুরঘর( দেশটিভি)ফেলে যে চ্যানেলটিতে এত আবেগ এত শ্রম-ঘাম দিয়ে মাঠ পর্যায়ে জনপ্রিয় করতে চেষ্টা করেছে, তাদের কাছ থেকে এমন উপহার ছিল বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো, তাও ইদের ঠিক একদিন পরেই এটি ঘটল। তখনও এফটিপিতে কত প্যাকেজ, কত ফলোআপ, বাড়ির কম্পিউটারে কত প্যাকেজের আইটেম, কত ফোল্ডার। নামের আগে কখনো সাংবাদিক না ব্যবহার করলেও পাবলিক আমাকে নামের আগে সাংবাদিক বসিয়েছে, কোন মিল্টন, সাংবাদিক মিল্টন, এভাবেই চেনে। এমন নাম ডাকে ফুলেফেঁপে না উঠে বরং লাজ্জাই পায় । যাদের প্রয়োজন তাদের সবার কাছেই মোবাইলে নাম্বার সেভ করে রেখেছে। সংবাদকর্মী হিসাবে প্রেসক্লাবে চ্যানেল24 এর প্রতিনিধি হিসাবে নাম, কত সোর্স, কত অফিস, কতো প্রিয়-অপ্রিয়জনের কাছে আমার মোবাইল নাম্বার!

কিভাবে মুহুর্তে বদলে যাবো, ভাবেনি, ভাবতে পারেনি। তাই ফকিরের মতো চাকুরী টা ভিক্ষা চাইতে গিয়েছিলাম তার দপ্তরে। হলো না, হয়নি । বাড়িতে আমার বিপর্যস্ত অবস্থা দেখে মা বললেন, কি এমন পয়সা পাস, সারাদিন দৌড়ঝাপ করে, রাত জেগে, খেয়ে-না খেয়ে, তার জন্যে দু:খের কিছু নেই । নতুন কিছু করো, বাদ দাও ওসব । এটা তো সত্যি, যা পেতাম তা দিয়ে আর যাই হোক সংসার চলার মতো নয় । কিন্তু, সংবাদকর্মী হিসাবে যেমনটি আমি নই, তেমন অপবাদে আমাকে সরে যেত হলো, সরে যেতে হবে আমার আজন্ম লালিত চ্যালেঞ্জিং পেশা সাংবাদিকতা থেকে !

আপনাদের একটা কথা বলে রাখি, এই ছন্দপতনে আমি হতাশ হয়েছিলাম, ভেঙ্গে পড়েছিলাম কিন্তু আশাহত হয়নি, কারণ আমি কি তা তো আমি জানি। কেউ যদি মনে করেন এটা অহংকারী কথা তবে বলব হ্যা এটা আমার আস্থা, নিজস্বতার, নির্ভারতার অহংকারের জায়গা, যা বলতেই পারি। আমি চিরায়িত সেই কথাগুলি বিশ্বাস করি কারো ধন-সম্পদ, অর্থ-বিত্ত অনেক কিছুই কেঁড়ে নেয়া যায়, ফাঁকি দেয়া যায়। কিন্তু কারো যোগ্যতা, মেধা, সৃজনশীলতার জায়গা কেউ কেঁড়ে নিতে পারে না । সে আমাকে চাকুরীচ্যুত করেছে, পেটে লাথি মেরেছে, সাংবাদিকতা থেকে বিদায় দিতে চেয়েছে, কিন্তু পারেনি, দিনশেষে আমি বিজয়ী, আমিই হেসেছি শেষ হাসি। আর ঐ ব্যক্তির হীন মানষিকতার জায়গা সম্পর্কে অনেকের স্পষ্ট ধারণা হয়েছে সাংবাদিক মহলে, সমাজে । বাইরে জোর গলায় অনেক কিছু বলতে পারে, পারবে কিন্তু নিরবে, নিভৃতে সে আমৃত্যু বিবেকের কাছে দংশিত হবে, হতেই হবে ।

দেখুন সে আমাকে চাকুরীচ‌্যুত করলেও বন্ধুর আর ঝুঁকিপূর্ণ সাংবাদিকতার এমন পথ যেটা আজন্ম লালিত সেখান থেকে সরাতে পারেনি। আমি এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় নিউজ চ্যানেল, ডিবিসি নিউজে কাজ করছি। আমি কৃতজ্ঞ ডিবিসি নিউজ পরিবারের কাছে, তারা আমাকে ঠায় দিয়েছে, কথিত সেই অপরাধ সম্পর্কেও খোঁজ নিয়েছে। আমি গর্বিত ২৪ ঘন্টার এই লাইভ নিউজ চ্যানেলে কাজ করতে পেরে । আমি হয়তো এখনো কোন ব্যতিক্রম বা ভালকিছু নিউজ উপহার দিতে পারেনি কিন্তু পেশাদারিত্বে, সাংবাদিকতায় দায়িত্বশীলতার জায়গাতে আমার কর্মস্থলের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে বদ্ধপরিকর, কোন বিচ্যুতি ঘটেনি, ঘটবে না ইনশাল্লাহ।

যখন চ্যানেল24 থেকে নিষ্ঠুর আঘাত এসেছিল তখনো আমি ভোরের কাগজের জেলা প্রতিনিধি, ২০০৯ সালে আমি এই পত্রিকার সেরা মফ:স্বল প্রতিনিধি হিসাবে পুরষ্কৃত হয়েছিলাম, দেশটিভিতে থাকাকালে স্থানীয়ভাবে পুরষ্কৃত হয়েছি প্রতিবন্দ্বীদের নিয়ে প্রতিবেদন করায় । সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গাতেও আমার কোন বদনাম নেই, দায়িত্বশীল হিসাবে দাঁড়াতে চেষ্টা করেছি। সবার সহযোগীতায় আমার হাত দিয়ে ঝিনাইদহে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে চিত্র নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ ঝিনাইদহ জেলা শাখা, তার আহবায়ক হয়ে কাজ করেছি র্দীঘদিন, সংগঠনটি এখন ঝিনাইদহে আলোচিত । সময়ের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকেই এই সংগঠনের ঢাকা অফিস দায়িত্ব দিয়েছিল ‘আপনাকে আমাদের সাথে কাজ করতে হবে’, সফলভাবে করেছি তা ।
যাহোক, বেশী বলা হয়ে যাচ্ছে। আপনাদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি, এ লেখাতে আমার, আমি, আর আমিত্ব এমন প্রথম পুরুষ ব্যবহার করায় । আর যে কারণে, যে ব্যথিত হৃদয়ে এটি বলছি তাহলো ৭ম বছরে পা দিয়ে শীর্ষ এ চ্যানেলটি( চ্যানেল২৪) এখন কেমন আছে ?
একজন সাবেক কর্মীর ঘাম এখানে ছিল, যেটা এখন আমার দীর্ঘশ্বাস। স্যোশাল মিডিয়ায় সাংবাদিক-কর্মীরা প্রশংসার জোয়ারে অভিনন্দন জানাচ্ছে চ্যানেলটিকে। সত্যিই তো এতকম সময়ে শুরু থেকে বিপুল জনপ্রিয়তা নিয়ে এগিয়ে চলা চ্যানেল খুব কমই আছে, গর্বিত হওয়ার কথায় । এই চ্যানেলের সাবেক এক হতভাগা মাঠকর্মী হিসাবে

আমিও অভিনন্দন জানায়, অভিনন্দন জানায়, যারা আজো নিরলস পরিশ্রম করে চলেছে জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে । তবে জানিনা, আমার মতো আরো কোন হতভাগার ভারী ও গরম দীর্ঘশ্বাসে, চোখের লোনাজ্বলে ভারী হয়েছে কি না চ্যানেলটির নিউজরুম । জানিনা, আর কোন পরিবারের পেটে লাথি পড়েছে কি না! তবে শুনেছি অনেকেই চোখের জ্বলে বিদায় নিয়েছে চ্যানেল24 থেকে । কি নিউজরুম, কি স্টাফ, কি মাঠ । অনেক সংবাদকর্মীর ঘামের বাতিঘর নাকি এখন অনেকটাই ম্রিয়মান । এখানে চাকুরীতে এসে অনেক সংবাদকর্মীর স্বপ্নের পৃথিবী মুহুর্তে ম্লান হয়েছে। গুমোট আর ডুকরে কেঁদে ওঠা আমার মতো হতভার জন্য সমবেদনা রইল । তা বে-সরকারী মিডিয়ায় প্রতিযোগীতার এই সময়ে অযোগ্যরা বাদ যাবে, চাকুরীচ্যুত হবে, বিতর্কিতদের সরিয়ে দেয়া হবে তা খুব স্বাভাবিক। তবে আমি চাই না প্রিয় চ্যানেলটিতে কারো হাউজ পলিটিক্সের শিকার হোক কারো স্বপ্ন, রুটি-রুজি, কারো মেধা, ঘাম, শ্রম, সৃজনশীলতা। প্রিয় চ্যানেলটি যেন নক্ষত্র হয়ে থাকে, কিন্তু প্রতিযোগীতার এই বাজারে এমন নক্ষত্রের পতন যেন না হয় কারো কারো রক্তচক্ষুর বলিতে। সাংবাদিকদের অধিকারের জায়গা, ক্ষমতার জায়গা প্রতিষ্ঠিত হোক চ্যানেলটিতে। ৭ম বছরে পদার্পণকারী চ্যানেল24 কে নিরন্তর শুভকামনা ।

( বিদ্র: এই লেখাটি মফ:স্বলের অদক্ষ অযোগ্য এক সাবেক কর্মীর শুধুই একটি দীর্ঘশ্বাস, এর সাথে অন্যকিছুর সম্পর্ক নেই )

 

আব্দুর রহমান মিল্টন
আব্দুর রহমান মিল্টন

লিখেছেনঃ
আব্দুর রহমান মিল্টন,
ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি,
ডিবিসি নিউজ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *